চাঁদপুর প্রতিনিধি:
চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় গৃহবধূ হত্যা মামলায় এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
রোববার দুপুরে চাঁদপুরের জ্যেষ্ঠ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সামছুন্নাহার এ রায় দেন বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) কোহিনুর রশিদ।
রায় ঘোষণার সময় গৃহবধূ জাহেদা আক্তার মিশু (২০) হত্যা মামলায় আসামি মো. সুজন খান আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তিনি ফরিদগঞ্জ উপজেলার চরমঘুয়া গ্রামের মসজিদসংলগ্ন খান বাড়ির আবুল বাশার খানের ছেলে।
মামলার বরাতে পিপি কোহিনুর রশিদ বলেন, ২০১৭ সালে জাহেদা আক্তার মিশুর সঙ্গে পাশের সন্তোষপুর গ্রামের সোহেল বেপারীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর সোহেল কাতার চলে গেলে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মিশুর বিরোধ দেখা দেয়। পরে মিশুর মা ছালেহা বেগম তাকে বাবার বাড়িতে নিয়ে আসেন।
অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজন মিশুকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।
২০১৯ সালের ২৯ জুলাই ভোর ৬টার দিকে চরমঘুয়া গ্রামে মিশুর বাবার বাড়িতে যান সুজন খান। সেখানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মিশুর মাথা ও কানে আঘাত করেন তিনি। মিশুর মা ছালেহা বেগম চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসেন।
গুরুতর আহত মিশুকে চাঁদপুর সরকারি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ওই দিনই মিশুর মা ছালেহা বেগম ফরিদগঞ্জ থানায় সুজন খানকে প্রধান আসামি করে পাঁচজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। পুলিশ ২০১৯ সালের ৩১ জুলাই সুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদগঞ্জ থানার তৎকালীন এসআই উনুমং মায়মা তদন্ত শেষে ওই বছরের ১৬ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ৩০ ডিসেম্বর আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
আইনজীবী কোহিনুর রশিদ বলেন, মামলার বিচার চলাকালে আদালত ২০ জনের সাক্ষ্য নেন। সুজন খানকে যাবজ্জীবনের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মামলার অপর আসামিরা খালাস পেয়েছেন।