1. dainiksamantaral@gmail.com : দৈনিক সমান্তরাল : দৈনিক সমান্তরাল
  2. info@www.dainiksamantaral.com : দৈনিক সমান্তরাল :
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
​মোড়েলগঞ্জে ১৪ বছরের কিশোর রিফাত নিখোঁজ, থানায় জিডি শার্শায় উলাসী খালের পাড়ে পরিবেশ মন্ত্রীর বৃক্ষরোপণ প্রকল্প পরিদর্শন আমতলীতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সঙ্গে লবিং ও অ্যাডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত বেনাপোল কাস্টমস হাউসে মতবিনিময় ও বৃক্ষরোপন কর্মসুচী পরিদর্শন সভায়,পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী: চোরাচালান ও রাজস্ব ফাঁকি রোধে কঠোর বার্তা কমলাপুরে ২৪ ঘণ্টায় ককটেল বিস্ফোরণ-আগুন নিরাপত্তা ঘাটতি কোথায়? টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে বালুমহালে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে ৯ শ্রমিককে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সুন্দরবনের গোলপাতার রস থেকে তৈরি হচ্ছে পুষ্টিগুণ সম্পন্ন গুড়: উপকূলীয় অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা ১ নং গোলমুন্ডায় শিক্ষার্থীদের মাঝে চারা বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ ‘সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে ছাত্রদলের উদ্যোগে কর্মসূচি। লালপুরে চোরাই মোটরসাইকেলসহ চোরচক্রের সদস্য গ্রেপ্তার আমতলী উপজেলাকে বাল্যবিবাহ মুক্ত ঘোষণা

কমলাপুরে ২৪ ঘণ্টায় ককটেল বিস্ফোরণ-আগুন নিরাপত্তা ঘাটতি কোথায়?

মাসুদ মাহাতাব, ঢাকা:
  • প্রকাশিত: সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৮ বার পড়া হয়েছে

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্ম ঘিরে পরপর দুই রাতের দুটি ঘটনায় এখন নানা প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। প্রথমে প্ল্যাটফর্মে ককটেল বিস্ফোরণ, আর এর পরের রাতেই একই প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনে আগুন। দুটি ঘটনা পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে একই স্থানে পরপর এমন দুটি ঘটনায় কমলাপুর রেলস্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নজরদারি এবং প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রথম ঘটনাটি ঘটে ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণে কোনো হতাহতের খবর না থাকলেও গুরুত্বপূর্ণ একটি রেলস্টেশনের প্ল্যাটফর্মে কীভাবে বিস্ফোরক নিয়ে প্রবেশ করা হলো, কারা এর সঙ্গে জড়িত এবং তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল এসব প্রশ্ন সামনে আসে। ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের কথাও জানানো হয়।

এর ঠিক পরদিন, ২০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে একই ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনের একটি কোচে আগুন লাগে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো রাত ৯টা ৪৬ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে এবং কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ততক্ষণে আগুনে হাওর এক্সপ্রেসের একটি কোচ পুড়ে যায়। আগুন লাগার সময় ট্রেনটিতে কোনো যাত্রী না থাকায় বড় ধরনের হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

আগুনের ধরন নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। ঢাকা বিভাগ রেলওয়ের ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামানের ভাষ্য অনুযায়ী, আগুন খুব দ্রুত পুরো কোচে ছড়িয়ে পড়ার আলামত পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে পেট্রোল বা গানপাউডার ব্যবহারের সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছে। তবে এগুলো প্রাথমিক ধারণা; তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত আগুনের প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। ফলে এটি দুর্ঘটনা, বৈদ্যুতিক ত্রুটি নাকি পরিকল্পিত অগ্নিসংযোগ তা এখন তদন্তের বিষয়।

ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় বাংলাদেশ রেলওয়ে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। ঢাকা বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তাকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে রয়েছেন ঢাকা অঞ্চলের রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর কমান্ড্যান্ট, বিভাগীয় বৈদ্যুতিক প্রকৌশলী, বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী এবং রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। কমিটি আগুনের কারণ, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এসব বিষয় খতিয়ে দেখে প্রতিবেদন দেবে।

ঘটনার পর রাতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রেল প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আগুনের সূত্রপাত ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি পর্যালোচনা করেন। এখন তদন্তকারীদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আগুনের উৎস কোথায় ছিল, আগুন লাগার আগে ওই কোচে কারা প্রবেশ করেছিল, স্টেশনের সিসিটিভি ক্যামেরায় কোনো সন্দেহজনক গতিবিধি ধরা পড়েছে কি না এবং আগুন লাগানোর জন্য কোনো দাহ্য পদার্থ ব্যবহার করা হয়েছিল কি না।

আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে আগের রাতের ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি। একই প্ল্যাটফর্মে এক রাত আগে বিস্ফোরণ এবং পরের রাতেই ট্রেনের কোচে অগ্নিকাণ্ড এই দুই ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। তবে তদন্তের ফল প্রকাশের আগে দুটি ঘটনাকে একই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। প্রমাণ, সিসিটিভি ফুটেজ, ফরেনসিক আলামত, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমেই প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসতে পারে।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন রাজধানীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গণপরিবহন কেন্দ্র। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এই স্টেশন ব্যবহার করেন। তাই এখানে বিস্ফোরণ কিংবা ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা শুধু রেলওয়ের সম্পদের ক্ষতি নয়, যাত্রী নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করে। বিশেষ করে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলস্টেশনে নিরাপত্তা জোরদার থাকা সত্ত্বেও পরপর দুই রাতে এমন ঘটনা কীভাবে ঘটল, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।

তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে যদি আগুনের প্রকৃত কারণ, সম্ভাব্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো দুর্বলতা উঠে আসে, তাহলে কমলাপুর রেলস্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে আগের রাতের বিস্ফোরণ এবং পরের রাতের অগ্নিকাণ্ডের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও স্পষ্ট হতে পারে। আপাতত তাই সবার নজর তদন্তের দিকে। কারণ প্ল্যাটফর্মে পরপর দুই রাতের এই দুটি ঘটনা কেবল আগুন ও বিস্ফোরণের ঘটনা নয় এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের গুরুত্বপূর্ণ একটি রেল যোগাযোগ কেন্দ্রের নিরাপত্তার প্রশ্ন।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট