জামালপুর সদর উপজেলার কচুয়ারপাড় গ্রামের বৃদ্ধা ফজিলার দুই চোখই আজ আলোহীন। চিকিৎসার অভাবে অন্ধত্বের শিকলে বন্দি হয়ে প্রতিটি মুহূর্ত কষ্টে কাটছে তার। জীবনের শেষ সময়ে এসে দেখার আলো হারিয়ে নিঃসঙ্গ হয়ে পড়েছেন তিনি।
ফজিলার স্বামী নেই, নেই কোনো ছেলে-মেয়ে। এমনকি আপন বলতে কোনো ভাইও নেই তার। মানুষের সহায়তায় কখনো খাবার জোটে, আবার কখনো না খেয়েও দিন কাটাতে হয় তাকে। অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবনের একটি বড় সময় পার করেছেন তিনি। কিন্তু বয়সের ভার আর চোখের আলো হারানোর পর এখন আর কোনো কাজ করাও সম্ভব হয় না।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, একসময় মানুষের বাড়িতে কাজ করে নিজের জীবিকা নির্বাহ করতেন ফজিলা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার শারীরিক সক্ষমতা কমে যায়। এর মধ্যে দুই চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলায় তিনি সম্পূর্ণভাবে অন্যের সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
বর্তমানে নিজের প্রয়োজনীয় কাজটুকুও ঠিকমতো করতে পারেন না তিনি। কেউ খাবার দিলে খেতে পারেন, আর কেউ না দিলে কষ্ট করে দিন পার করতে হয়। চিকিৎসার প্রয়োজন থাকলেও অর্থের অভাবে চোখের চিকিৎসা করানো সম্ভব হয়নি।
বৃদ্ধা ফজিলার জীবনের এই অসহায়ত্ব হৃদয় নাড়া দেয় স্থানীয়দেরও। সমাজের বিত্তবান, মানবিক ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তার চোখের চিকিৎসার পাশাপাশি নিয়মিত খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ফজিলার চোখে আবার আলো ফিরবে কি না, তা চিকিৎসার পরই জানা যাবে। তবে মানবিক সহায়তা পেলে তার জীবনের শেষ সময়টুকু অন্তত কিছুটা স্বস্তিতে কাটতে পারে।