গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার শাহাপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে জমজমাট হাডুডু খেলা। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শাহাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ খেলাকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়।
খেলায় মুখোমুখি হয় শাহাপুর একাদশ ও কাশিপুর একাদশ। খেলা শুরুর পর থেকেই দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে চলে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা। একের পর এক আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে পুরো ম্যাচ। খেলোয়াড়দের কৌশল, শারীরিক দক্ষতা ও সাহসী নৈপুণ্যে মাঠের চারপাশে থাকা দর্শকদের মধ্যে সৃষ্টি হয় বাড়তি উত্তেজনা।
খেলা দেখতে দুপুরের পর থেকেই মাঠে জড়ো হতে থাকেন স্থানীয় বিভিন্ন বয়সী মানুষ। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে তরুণ ও বয়োজ্যেষ্ঠরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে খেলাটি উপভোগ করেন। খেলোয়াড়দের প্রতিটি সফল আক্রমণ ও প্রতিরোধে দর্শকদের করতালিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। দীর্ঘদিন পর গ্রামীণ পরিবেশে এমন ঐতিহ্যবাহী খেলার আয়োজন হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও দেখা যায় আনন্দ-উচ্ছ্বাস।
তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ খেলা শেষে কাশিপুর একাদশ জয়লাভ করে। জয়-পরাজয়ের পাশাপাশি খেলাটিকে ঘিরে দুই দলের খেলোয়াড় ও সমর্থকদের মধ্যে ছিল সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ।
আয়োজকেরা জানান, হাডুডু শুধু একটি খেলা নয়, এটি গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আধুনিকতার প্রভাবে ঐতিহ্যবাহী অনেক খেলাই আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। তাই নতুন প্রজন্মের কাছে হাডুডু খেলাকে পরিচিত করে তোলা এবং মাঠমুখী করার উদ্দেশ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
তারা আরও বলেন, বর্তমান সময়ে তরুণদের একটি অংশ মাদক ও জুয়ার মতো ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের ব্যস্ত রাখা গেলে তাদের এসব কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রাখা সম্ভব। এ ধরনের আয়োজন তরুণদের মধ্যে শারীরিক ও মানসিক বিকাশের পাশাপাশি পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সামাজিক বন্ধনও বাড়াবে বলে মনে করেন আয়োজকেরা।
স্থানীয় দর্শকরা বলেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী হাডুডু খেলা দেখতে পেরে তারা আনন্দিত। নিয়মিতভাবে এমন খেলাধুলার আয়োজন হলে এলাকার শিশু-কিশোর ও তরুণদের মধ্যে খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ বাড়বে এবং তারা মাদক ও জুয়ার মতো সামাজিক ব্যাধি থেকে দূরে থাকবে।
শাহাপুরের এই হাডুডু খেলাকে ঘিরে দিনব্যাপী ছিল উৎসবের আমেজ। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন অব্যাহত থাকবে এবং এর মাধ্যমে হারিয়ে যেতে বসা গ্রামীণ খেলাধুলার ঐতিহ্য নতুন করে প্রাণ ফিরে পাবে।