আবু জিহাদ, আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
বরগুনার আমতলী উপজেলার ৬ নম্বর আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. হানিফ বয়াতির এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় তিনি নির্বাচিত হলে ইউনিয়নবাসীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন, দুর্নীতি ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠন, চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস দমন এবং ইউনিয়ন পরিষদের সেবায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
একই সঙ্গে তিনি সাধারণ মানুষের দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।
সোমবার বিকেল ৪টায় অনুষ্ঠিত সভাটি সঞ্চালনা করেন আমতলী সদর ইউনিয়নের ০৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. মাহবুব।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. হানিফ বয়াতি।
বক্তব্যে হানিফ বয়াতি বলেন, “মহান আল্লাহর রহমতে আমি যদি নির্বাচিত হতে পারি, তাহলে এ অঞ্চলের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করব। আমার কোনো কাজের কারণে যেন কোনো মানুষের ক্ষতি না হয়, সে বিষয়ে সচেষ্ট থাকব। আমি আপনাদের দোয়া ও সমর্থন চাই।”
তিনি আরও বলেন, বিগত সরকারের সময়ে তিনি বিভিন্ন মামলা, হামলা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্য, তিনি কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নন; সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করতে চান। নির্বাচিত হলে আমতলী সদর ইউনিয়নকে একটি মডেল ইউনিয়নে রূপান্তরিত করার উদ্যোগ নেবেন বলে জানান তিনি।
ইউনিয়ন পরিষদের নাগরিক সেবায় স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার বিষয়ে হানিফ বয়াতি বলেন, ওয়ারিশ সনদ ও জন্মনিবন্ধনসহ বিভিন্ন সেবা পেতে সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হবে না। সাধারণ মানুষ যাতে হয়রানি ছাড়াই প্রয়োজনীয় সেবা পেতে পারেন, সে লক্ষ্যে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
চাঁদাবাজ, সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতিমুক্ত ইউনিয়ন গড়ে তোলাই তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। ইউনিয়নের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো ভুলত্রুটি হলে তা সরাসরি তাঁকে জানানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মানুষের পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে ভুল সংশোধনের চেষ্টা করবেন।
সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ওপর গুরুত্বারোপ করে সম্ভাব্য এ চেয়ারম্যান প্রার্থী বলেন, তাঁর সঙ্গে কথা বলতে কোনো মধ্যস্থতাকারী বা দালালের প্রয়োজন হবে না। এলাকার মানুষ তাঁদের সমস্যা, অভিযোগ ও পরামর্শ সরাসরি তাঁকে জানাতে পারবেন। তিনি জনগণের পাশে থেকে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সেবা দিতে চান।
আবেগঘন বক্তব্যে হানিফ বয়াতি বলেন, “আমার বাবা-মা নেই। আপনারাই আমার ভাই, আপনারাই আমার পরিবার। আমি আপনাদের পাশে থাকতে চাই। আপনাদের দোয়া ও সমর্থন প্রত্যাশা করি।”
পথসভায় তিনি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তাঁর বক্তব্যে নাগরিক সেবা সহজীকরণ, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং স্থানীয় উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়গুলো উঠে আসে।