বরগুনার আমতলীতে সহপাঠীর দেওয়া আখরোট খাওয়ার পর একই বিদ্যালয়ের সাত ছাত্রী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে আমতলী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের কোচিং সেন্টারে এ ঘটনা ঘটে।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের স্বজন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উদয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দিনের বেলায় নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রমের পাশাপাশি রাতে কোচিং পরিচালিত হয়।
বুধবার রাতে সপ্তম শ্রেণির কোচিং চলাকালে আবির (১৩) নামে এক ছাত্র তার কয়েকজন সহপাঠী ছাত্রীকে আখরোট খেতে দেয়। আখরোট খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই সাত ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েন।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছে—সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী এলমা (১৩), সামিয়া (১৩), মিম (১৩), ফাতেমা (১৩), তানিয়া (১৩), উর্মি (১৩) ও মরিয়ম (১৩)। তাদের মধ্যে কয়েকজনের বমি, শ্বাসকষ্ট ও খিঁচুনির মতো উপসর্গ দেখা দেয় বলে স্বজনরা জানান।
ঘটনার পর বিদ্যালয়ে উপস্থিত অভিভাবক ও সহপাঠীরা দ্রুত অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাদের জরুরি বিভাগে ভর্তি করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, অসুস্থ শিক্ষার্থীদের কয়েকজনের বারবার বমি হচ্ছিল। চিকিৎসকেরা তাদের পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্যালাইন দেন।
ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে শিক্ষার্থী ফাতেমার বাবা আবুল হোসেন বলেন, ‘মেয়েকে স্কুলে পড়াশোনার জন্য পাঠিয়েছি। সেখানে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে, তা কখনো আশা করিনি।
ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’
এলমার বাবা রিয়াজ পেদা উদ্দিন বলেন, ‘মেয়েকে লেখাপড়া শেখানোর জন্য বিদ্যালয়ে পাঠিয়েছি। হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার খবর পেয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত কারণ বের করা দরকার।’
বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নাজমুল হাসান নান্নু বলেন, ‘কী কারণে শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। তবে আবির নামে এক শিক্ষার্থী কয়েকজনকে আখরোট খেতে দিয়েছিল বলে শুনেছি। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।’
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সোলাইমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক শুভেন্দু রায় শুভ বলেন, অসুস্থ অবস্থায় সাতজন শিক্ষার্থী হাসপাতালে আসে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে তারা অসুস্থ হয়েছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। প্রয়োজনীয় প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে।