নীলফামারীর ডিমলায় জমে উঠেছে ঐতিহ্যবাহী হা-ডু-ডু খেলার লড়াই। ‘বিশাল হা-ডু-ডু টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর প্রথম রাউন্ডের তৃতীয় ম্যাচে নাড্ডাপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবকে পরাজিত করে পরবর্তী রাউন্ডে জায়গা করে নিয়েছে বনগ্রাম টাইগার স্পোর্টিং ক্লাব।
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা হা-ডু-ডুকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার দক্ষিণ সোনাখুলীতে।
SK এন্টারপ্রাইজ ও মা হোমিও হলের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিশাল হা-ডু-ডু টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর প্রথম রাউন্ডের তৃতীয় ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে দক্ষিণ সোনাখুলী সাতারুর চৌপথী সংলগ্ন মাঠে।
ম্যাচে মুখোমুখি হয় নাড্ডাপাড়া স্পোর্টিং ক্লাব ও বনগ্রাম টাইগার স্পোর্টিং ক্লাব। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এ খেলায় নাড্ডাপাড়া স্পোর্টিং ক্লাবকে পরাজিত করে জয় তুলে নেয় বনগ্রাম টাইগার স্পোর্টিং ক্লাব। এর মধ্য দিয়ে টুর্নামেন্টের পরবর্তী রাউন্ডে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বিজয়ী দল।
খেলা দেখতে মাঠে উপস্থিত হন স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমী দর্শকরা। খেলোয়াড়দের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ ও দর্শকদের উৎসাহে পুরো মাঠজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দক্ষিণ সোনাখুলী শালতলা মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক মাওলানা ওয়াহেদুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৮ নম্বর ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. তহিদুল ইসলাম।
টুর্নামেন্টের উদ্বোধক ছিলেন বিএনপি চাপানী হাটের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম। প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৮ নম্বর ঝুনাগাছ চাপানী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ইজারাদার মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন।
বরেণ্য অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এন ফিলিং স্টেশন, চাপানী হাটের ম্যানেজার মোহাম্মদ মোস্তাফিজার রহমান মুকুল। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান।
এ ছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সমাজসেবক, ব্যবসায়ী ও জনপ্রতিনিধি পদপ্রার্থীরা।
খেলা পরিচালনা করেন চাপানী হাটের সমাজসেবক মোহাম্মদ মোজাফফর হোসেন। টুর্নামেন্টের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন SK এন্টারপ্রাইজের মোহাম্মদ নুর-আলম।
আয়োজনটির সৌজন্যে ছিলেন SK এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আতাউর রহমান আশিক এবং মা হোমিও হলের স্বত্বাধিকারী ডাক্তার মোহাম্মদ মাহাবুবুর রহমান।
গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাশাপাশি তরুণদের খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলা, সামাজিক সম্প্রীতি বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ ক্রীড়াঙ্গনকে প্রাণবন্ত করতে এমন উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।