বরগুনার আমতলী উপজেলার গুলিশাখালী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের খেকুয়ানী বাজার এলাকায় দীর্ঘদিনের ঝুঁকিপূর্ণ সেতু অপসারণ করে নতুন সেতু নির্মাণের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল ১০টায় আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
চাওড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান মোমেন আকন মানববন্ধনটি সঞ্চালনা করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন গুলিশাখালী ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. গোলাম মোস্তফা।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, একসময় আমতলী থানার কার্যক্রম গুলিশাখালী এলাকায় পরিচালিত হতো। ঐতিহ্যবাহী এ অঞ্চলের সঙ্গে উপজেলা সদরের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম খেকুয়ানী বাজারসংলগ্ন সেতুটি। প্রতিদিন এ সেতু দিয়ে গড়ে হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন।
পাশাপাশি গুলিশাখালীসহ আশপাশের চারটি ইউনিয়নের মানুষও সেতুটির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে স্থানীয়দের।
বক্তারা আরও বলেন, সেতুটির বেহাল অবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে অসুস্থ রোগী, গর্ভবতী নারী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। বিকল্প পথে উপজেলা সদরে যেতে অনেককে অতিরিক্ত পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই অপচয় হচ্ছে।
গুলিশাখালী ইউনিয়নের শিক্ষক মো. মিরাজ মিয়া বলেন, সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় আশপাশের এলাকা থেকে উপজেলা সদরে যাতায়াত করতে অনেককে প্রায় ১০ কিলোমিটার পথ ঘুরতে হয়। এতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা বেলাল আকন বলেন, কোনো গর্ভবতী নারী বা গুরুতর অসুস্থ রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নিতে হলে আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর কারণে দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই জনস্বার্থে সেতুটি দ্রুত নতুন করে নির্মাণ করা প্রয়োজন।
সাংবাদিক মো. সুমন রশিদ বলেন, এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে আমাদের জোর দাবি, জনদুর্ভোগ বিবেচনায় নিয়ে সেতুটি দ্রুত অপসারণ করে সেখানে একটি নতুন ও টেকসই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হোক।
মো. ফারুক হাং বলেন, খেকুয়ানী বাজারে প্রায় ৩০০ ব্যবসায়ী রয়েছেন। ঝুঁকিপূর্ণ সেতুর কারণে দোকানের মালামাল আনা-নেওয়াসহ ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সেতুটি নতুন করে নির্মাণ করা হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং স্থানীয় অর্থনীতিও উপকৃত হবে।
মো. মনিরুল ইসলাম বর্তমান সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করে বলেন, দীর্ঘদিনের এ জনদুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
চাওড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি মো.আসাদুজ্জামান মোমেন আকন বলেন, সেতু নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করা না হলে সর্বস্তরের জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আবদুস সাত্তার হাং বলেন, এ সেতু দিয়ে পাশাপাশি চারটি ইউনিয়নের মানুষ চলাচল করেন। ফলে সেতুটি শুধু একটি এলাকার নয়, বরং বৃহৎ জনগোষ্ঠীর যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা করতে হবে।
এ ছাড়া মানববন্ধনে বক্তব্য দেন গুলিশাখালী ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি মো. জিয়াদুল করিম, ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি কবির পঞ্চায়েত, সাংবাদিক মো. দেলোয়ার মুন্সি, মো. মোশারেফ হোসেন, গুলিশাখালী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. তোফাজ্জল হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত। সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের কাছে আমাদের আকুল আবেদন, অবহেলিত এ জনপদের মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে দ্রুত সেতু নির্মাণের ব্যবস্থা করুন। আমরা উন্নয়নের সুফল পেতে চাই এবং নিরাপদে স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে চাই।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অবিলম্বে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি অপসারণ করে সেখানে নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানান এবং আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট একটি স্মারকলিপি প্রদান করার কথা বলেন।
সাধারণ নাগরিকদের দাবি সেতুটি নির্মিত হলে গুলিশাখালীসহ আশপাশের চার ইউনিয়নের মানুষের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ হবে, শিক্ষার্থী ও রোগীদের যাতায়াতে ভোগান্তি কমবে এবং খেকুয়ানী বাজারের ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতিশীলতা আসবে।