বরগুনা জেলার আমতলী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের স্বমিল রোডের ট্রলারঘাটে যাওয়ার একমাত্র প্রবেশপথটি পৌরসভার নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী নির্মাণ করা হলেও মূল সড়কের সঙ্গে সংযোগস্থল সংকুচিত হয়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ব্যবসায়ী, কাঠ ব্যবসায়ী, যানবাহন চালক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযোগ রয়েছে, সংযোগ সড়কের দুই পাশের জায়গা অবৈধ দখল করে রাখায় পণ্যবাহী বড় গাড়ি, গাছবোঝাই ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহন স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছে না।
স্থানীয়দের দাবি, আমতলী পৌর শহরের ব্যবসায়ীদের ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে নৌপথে পণ্য আনা-নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বমিল রোডের ট্রলারঘাটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এ পথটি কার্যত ওই এলাকার নৌপথে পণ্য পরিবহনের অন্যতম প্রধান প্রবেশপথ। কিন্তু মূল সড়কের সঙ্গে সংযোগস্থল সরু হওয়ায় ঢাকা থেকে আনা পণ্যবাহী গাড়ি ঘাটে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় নানা সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এতে অনেক সময় পণ্য ওঠানো-নামানো এবং পরিবহনে বাড়তি সময় ও খরচের পাশাপাশি মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, স্বমিল রোডের পাশে রয়েছে চার-পাঁচটি করাতকল (স’মিল)। এসব মিলে বিভিন্ন এলাকা থেকে গাছবোঝাই গাড়িতে করে কাঠ আনা হয়। কিন্তু রাস্তার মুখ সংকুচিত হওয়ায় বড় গাড়িগুলো গাছবোঝাই অবস্থায় মিলে প্রবেশ করতে গিয়ে বিপাকে পড়ে। অনেক সময় অতিরিক্ত গাছ নিয়ে গাড়ি প্রবেশ করানো সম্ভব হয় না।
আবার মিল থেকে কাঠ কেটে বের হওয়ার সময়ও সরু সংযোগস্থলের কারণে চালকদের ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাতে হয়।
স্বমিল ব্যবসায়ী মোঃ আমীর তালুকদার জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বিভিন্ন সমস্যা ছিল। পরে পৌরসভা সড়কটি পুনর্নির্মাণ করেছে। এতে মূল সড়কের ভেতরের অংশের সমস্যা অনেকটাই কমেছে। তবে মূল সড়কের সঙ্গে সংযোগস্থলের দুই পাশের জায়গা সংকুচিত থাকায় পুরো সমস্যার সমাধান হয়নি। তাদের অভিযোগ, সংযোগস্থলের দুই পাশের জমি দখল করে রাখার কারণে সড়কটি পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যবহার করা যাচ্ছে না।
স্বমিল ব্যবসায়ীরা বলেন, “পৌরসভা আমাদের রাস্তা পুনর্নির্মাণ করলেও মূল সড়কের সঙ্গে সংযোগস্থলটি প্রশস্ত না হওয়ায় আমরা প্রতিনিয়ত ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি। গাছবোঝাই গাড়ি মিলে ঢোকানো ও বের করার সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। দ্রুত সংযোগস্থলটি পৌরসভার নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী উন্মুক্ত ও প্রশস্ত করা প্রয়োজন।”
গাড়িচালক জুয়েল বলেন, তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে গাড়ি চালাচ্ছেন। তার ভাষ্য, “এই রাস্তার মুখটি সংকুচিত হওয়ায় অনেক সময় বেশি গাছ নিয়ে গাড়ি নিয়ে ঢুকতে পারি না। আবার মিল থেকে কাঠ কেটে গাড়ি নিয়ে বের হওয়ার সময়ও মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি হয়। অনেক সময় গাড়ি ঘোরাতে গিয়ে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। আমরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করি। এ বিষয়ে পৌর কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।”
শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য নয়, সড়কটির সংকীর্ণতার কারণে জরুরি সেবাও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
অত্র এলাকায় হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি মহাশ্মশান ঘাট রয়েছে। কোনো ব্যক্তি মারা গেলে মরদেহ নিয়ে অ্যাম্বুলেন্স বা অন্যান্য যানবাহন সরাসরি শ্মশানঘাটের কাছাকাছি পৌঁছাতে সমস্যায় পড়ে। ফলে স্বজনদের মরদেহ বহন করে নিয়ে যেতে হয়। এতে প্রিয়জন হারানোর শোকের পাশাপাশি স্বজনদের অতিরিক্ত দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ডের মতো জরুরি পরিস্থিতিতেও সংকুচিত সড়কটি বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। আমতলী পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. বদু হাওলাদার জানান, গত বছর তাঁর বাড়িতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগে। কিন্তু রাস্তার সামনের অংশ সংকুচিত থাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি তাঁর বাড়ির সামনে পৌঁছাতে পারেনি।
বদু হাওলাদার বলেন, “গত বছর আমার বাসায় বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। কিন্তু রাস্তার সামনের অংশ সরু থাকায় গাড়ি বাড়ির সামনে আসতে পারেনি। তারা যদি আরও কিছুটা দেরি করত, তাহলে আমার ঘরের সবকিছু পুড়ে যেত। ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এখনই রাস্তার সামনের অংশটি প্রশস্ত করা দরকার। পৌরসভার যে পরিকল্পনা অনুযায়ী রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে, আমরা সেটিই বাস্তবায়ন চাই।