পলাশ পাল, নেত্রকোনা (জেলা) প্রতিনিধি:
নেত্রকোণার মদন উপজেলায় ১১ বছরের শিশু ধর্ষণের ঘটনায় জন্ম নেওয়া কন্যাশিশুর জৈবিক বাবা হিসেবে অভিযুক্ত মাদ্রাসা শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরকে শনাক্ত করা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) নেত্রকোণার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবীর রুবেল জানান, সিআইডি পরীক্ষার মাধ্যমে আসামির পিতৃত্বের প্রমাণ মিলেছে এবং আশা করা হচ্ছে আগামী ৬০ দিনের মধ্যে মামলার বিচার কার্যক্রম শেষ হবে।
ঘটনা ও মামলার মূল অগ্রগতি
ঘটনার পটভূমি: শিশুটি তার নানার বাড়িতে থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক প্রতিষ্ঠিত একটি মহিলা কওমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। গত ১৮ এপ্রিল শিশুটি অসুস্থ হলে মদন পৌর শহরের একটি ক্লিনিকে পরীক্ষার পর তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে।
মামলা ও গ্রেপ্তার: খবর পাওয়ার পর ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা করেন। পরবর্তীতে ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর এলাকা থেকে র্যাব আসামিকে গ্রেপ্তার করে এবং আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
নিরাপত্তা ও শিশুর জন্ম: আদালতের নির্দেশে ১২ মে শিশুটিকে সিলেটের একটি সেফ হোমে পাঠানো হয়। সেখানে ২ জুলাই সে একটি কন্যাশিশুর জন্ম দেয়।
ডিএনএ পরীক্ষা: পিতৃত্ব নির্ধারণে ৯ জুলাই আদালতের অনুমতি নিয়ে ২৮ জুলাই সেফ হোমে নবজাতকের নমুনা সংগ্রহ করে সিআইডি। পরীক্ষায় মাদ্রাসা শিক্ষক সাগরই শিশুটির জৈবিক বাবা হিসেবে প্রমাণিত হন।
বর্তমানে এই ডিএনএ প্রতিবেদনকে মামলার অন্যতম প্রধান ও শক্ত প্রমাণ হিসেবে ধরে বিচারিক কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।