ছেলেকে সৌদি আরবে পাঠিয়ে পরিবারের ভাগ্য পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছিলেন কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার পূর্বগ্রাম শান্তিপুর এলাকার মো. রাশিদ মিয়া ও তাঁর স্ত্রী মোছা. জয়বাহার (৪৫)। ছেলের বিদেশযাত্রার জন্য ঋণ করে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা জোগাড় করেছিলেন রাশিদ। কিন্তু সেই স্বপ্নের পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন জয়বাহার। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন রাশিদ মিয়া ও তাঁদের ছেলে নিরব (২১)।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ছেলেকে বিদেশে পাঠানোর উদ্দেশ্যে ঢাকা যাওয়ার পথে কিশোরগঞ্জের পুলেরঘাট এলাকায় তাঁদের বহনকারী গাড়িটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে জয়বাহারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে নরসিংদীর ইটেরখোলা এলাকায় গাড়িতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
নিহতের ভাতিজা আল আমিন জানান, আগামী শুক্রবার নিরবের সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল। বিদেশযাত্রার প্রস্তুতি হিসেবে পরিবারের সদস্যরা ঢাকা যাচ্ছিলেন। পথেই দুর্ঘটনায় তাঁর চাচি জয়বাহার মারা যান।
আল আমিন বলেন, ‘আমরা এই সড়ক দুর্ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। অসহায় পরিবারটি এখন আরও অসহায় হয়ে পড়েছে।’
এদিকে আহত নিরব অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর তাঁদের কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসা ও দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়।
স্বজনদের দাবি, দুর্ঘটনার ঘটনায় কটিয়াদী থানায় মামলা করা হয়েছে। তবে দুর্ঘটনায় জড়িত লরি বা পণ্যবাহী গাড়িটি এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
নিহতের স্বামী রাশিদ মিয়া বলেন, ‘ছেলেকে বিদেশ পাঠানোর জন্য ঋণ করে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা জোগাড় করেছিলাম। এখন স্ত্রীকে হারিয়ে সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। আমি এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।’
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রাশিদ মিয়া ও জয়বাহারের তিন মেয়ে ও এক ছেলে। ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়ে পরিবারের আর্থিক অবস্থার পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছিলেন তাঁরা। কিন্তু মায়ের মৃত্যুতে সেই স্বপ্ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে।
কটিয়াদী হাইওয়ে থানায় দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তা মেহেদী মাসুদ বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনার অভিযোগ পেয়েছে পুলিশ। আইনগত ব্যবস্থা চলমান রয়েছে।’