1. dainiksamantaral@gmail.com : দৈনিক সমান্তরাল : দৈনিক সমান্তরাল
  2. info@www.dainiksamantaral.com : দৈনিক সমান্তরাল :
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নীলফামারীতে ৮ মাসে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ১৮ ঘটনার অভিযোগ, বিচারিক কমিশন গঠনের দাবি HRCBM-এর বিশ্বনাথে ঘরে ঢুকে মারধর-লুট ও ভাংচুরের ঘটনায় আ’লীগ-ছাত্রলীগের ৭০ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ছাত্রদল নেতা বকুলের মামলা বাগেরহাটে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবিতে যুবদের সাইকেল র‍্যালি প্রবাসে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনা, প্রাণ গেল মায়ের আইনশৃঙ্খলা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ঝিনাইদহ জেলার শ্রেষ্ঠ থানা মহেশপুর শার্শা থানা পুলিশের অভিযানে গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ী আটক কালিহাতীতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ নলডাঙ্গায় বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে পাটকাঠিবাহী ট্রাকে আগুন নাটোরের সিংড়ায় উপজেলার তিনটি অবৈধ স্রোতিজালের কাঠামো অপসারণ মহেশপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ,আহত-৩

নীলফামারীতে ৮ মাসে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ১৮ ঘটনার অভিযোগ, বিচারিক কমিশন গঠনের দাবি HRCBM-এর

গৌরাঙ্গ বিশ্বাস, স্টাফ রির্পোটার:
  • প্রকাশিত: মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১৭ বার পড়া হয়েছে

নীলফামারী জেলায় চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত আট মাসে সনাতন ধর্মাবলম্বী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নির্যাতন, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ১৮টি ঘটনার অভিযোগ নথিভুক্ত করার দাবি করেছে মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস কংগ্রেস ফর বাংলাদেশ মাইনরিটিজ (HRCBM)। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও সত্যতা যাচাইয়ে দ্রুত একটি জুডিশিয়াল কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) সকাল ১০টায় নীলফামারী কালেক্টোরেট চত্বরে কেন্দ্রীয় শ্রী শ্রী শিব মন্দিরে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য উপস্থাপন করেন HRCBM-এর বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কনভেনার অ্যাডভোকেট লাকী বাছাড়। এ সময় সংস্থার বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের কো-অর্ডিনেটর আশীষ কুমার (অঞ্জন), কক্সবাজার কো-অর্ডিনেটর রানা প্রতাপ দে, রংপুর ডিভিশনাল কো-অর্ডিনেটর রমেশ চন্দ্র রায়, নীলফামারী জেলা কো-অর্ডিনেটর গণপতি রায় ও প্রভাত রায়সহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কো-অর্ডিনেটর, অবজারভার এবং স্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বক্তব্যে HRCBM জানায়, নীলফামারীর বিভিন্ন এলাকায় সংখ্যালঘু নাগরিকদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তাহীনতা, হুমকি, নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা, ভূমি ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধ, মন্দির ও ধর্মীয় স্থাপনা নিয়ে সমস্যা, চুরি, হামলা এবং অন্যান্য সহিংসতার অভিযোগ তাদের নজরে এসেছে।
সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তারা কোনো অভিযোগকে তদন্তের আগে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করে না। অভিযোগ গ্রহণ, তথ্য সংগ্রহ, স্থানীয় পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই তাদের কাজ। কোনো ঘটনার প্রকৃত সত্য, দায়ী ব্যক্তি ও ঘটনার উদ্দেশ্য নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করা উচিত।
সাংবাদিক সম্মেলনে বিশেষভাবে ভূমি ও সম্পত্তি-সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রে দলিল, খতিয়ান, নামজারি, দখল এবং আদালতের আদেশ যথাযথভাবে যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়। একইভাবে মন্দির বা ধর্মীয় স্থাপনায় কোনো ঘটনা ঘটলে সেটি সাধারণ অপরাধ, ব্যক্তিগত বিরোধ নাকি ধর্মীয় বিদ্বেষ—তা প্রমাণের ভিত্তিতে নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়।
জলঢাকায় কয়েকটি ঘটনার অভিযোগ
HRCBM-এর বক্তব্য অনুযায়ী, শুধু জলঢাকা উপজেলাতেই গত আট মাসে আটটি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হয় সাংবাদিক সম্মেলনে।
সংস্থানটির দাবি, গত ১৮ জানুয়ারি জলঢাকার পশ্চিম বালাগ্রাম ৪ নম্বর ওয়ার্ডে লিটন চন্দ্র রায়ের পরিবারের ওপর অগ্নিসংযোগ ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় বাইরে থেকে শয়নকক্ষের দরজায় তালা লাগিয়ে ঘরের ভেতরে থাকা খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। এতে বুদাস চন্দ্র রায় (৪০) গুরুতর আহত হন বলে HRCBM জানিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাচেষ্টা হিসেবে দাবি করা হয়েছে বলে সংস্থাটি জানায়।
এ ছাড়া গত ৩০ জুলাই জলঢাকার শিমুলবাড়ী ইউনিয়নের ঘুঘুমারি গ্রামে মিষ্টি রানী দাস (১৭) নামের এক কিশোরীর মৃত্যুর ঘটনাও তুলে ধরা হয়। HRCBM-এর বক্তব্য অনুযায়ী, একই বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছাত্র আলমগীর হোসেন রিয়াজের সঙ্গে প্রেমের বিষয় নিয়ে জানাজানি হওয়ার পর মানসিক চাপের মধ্যে মিষ্টি রানী কীটনাশক পান করেন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত ১২ আগস্ট মিরগঞ্জ ইউনিয়নের ৩ নম্বর এলাকায় একটি সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখলের চেষ্টা, গাছপালা কেটে ফেলা এবং দেশত্যাগের হুমকির অভিযোগ তুলে ধরে HRCBM। সংস্থাটির দাবি, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হলে প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে গেলেও সংঘবদ্ধ জনতার আতঙ্কে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরিবারের নারী সদস্যরা নিরাপত্তার কারণে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন বলেও জানানো হয়।
এ বিষয়ে HRCBM-এর পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়, পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী প্রশাসনের একজন কর্মকর্তা তাদের তিন শতক জমি ছেড়ে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। সংস্থাটি এ ধরনের অভিযোগকে উদ্বেগজনক হিসেবে উল্লেখ করে বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে।
এ ছাড়া জলঢাকার মুদিপাড়ায় শতবর্ষের পুরোনো কালীমন্দিরের প্রবেশগেট ও পূর্ব দেয়াল ভেঙে ফেলার অভিযোগও সাংবাদিক সম্মেলনে তুলে ধরা হয়। অভিযোগকারী প্রশান্ত কর্মকারের বক্তব্য অনুযায়ী, কাঁচা রাস্তা পাকা করার টেন্ডার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এ কাজ করা হয়েছে। তবে মন্দিরের নিরাপত্তা ও কাজটি বৈধ অনুমোদনের ভিত্তিতে হয়েছে কি না, তা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়।
গত ১৬ আগস্ট গোলমুন্ডা ইউনিয়নের তিলাই গ্রামে লিমা রায় নামে এক সংখ্যালঘু গৃহবধূকে শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ নিয়েও বক্তব্য দেওয়া হয়। HRCBM-এর ভাষ্য অনুযায়ী, জিকরুল হক (৩৫) নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি ওই নারীর বাড়িতে প্রবেশ করে তাঁকে যৌন হয়রানি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ১৭ আগস্ট ভুক্তভোগী থানায় অভিযোগ করেন বলে সংগঠনটি জানায়। বিষয়টি তদন্তাধীন বলেও সাংবাদিক সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়।
অন্যদিকে, গত ২৬ আগস্ট ডালিয়া রোডের সামনে পাশাপাশি তিনটি জুয়েলারি দোকানে চুরির অভিযোগ তুলে ধরা হয়। HRCBM জানায়, বৈশাখী চন্দ্র রায়ের ‘বৈশাখ জুয়েলার্স’, পরিমল চন্দ্র রায়ের ‘পল্লবী জুয়েলার্স’ এবং দীপু চন্দ্র রায়ের ‘শিব শংকর জুয়েলার্সে’ গভীর রাতে চুরির ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, চোরেরা টিনের চালা কেটে দোকানে প্রবেশ করে ড্রয়ার ও লকার ভেঙে স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থসহ আনুমানিক ৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল নিয়ে যায়।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
সাংবাদিক সম্মেলনে অ্যাডভোকেট লাকী বাছাড় বলেন, কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে প্রমাণ ছাড়া সাম্প্রদায়িক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা যেমন উচিত নয়, তেমনি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ভূমি দখল, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভয়ভীতি প্রদর্শন, সহিংসতা বা বিচারহীনতার অভিযোগ উঠলে সেগুলো বৃহত্তর মানবাধিকার পরিস্থিতির আলোকে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, “অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করা প্রয়োজন।”
HRCBM-এর পক্ষ থেকে সরকারের কাছে দ্রুত একটি নিরপেক্ষ জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করে অভিযোগগুলোর পর্যবেক্ষণ, তদন্ত ও সত্যতা যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়।
সংস্থাটি আরও দাবি করে, তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা, পুনর্বাসন ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে হবে।
HRCBM-এর তিন দফা দাবি
সাংবাদিক সম্মেলনে HRCBM-এর পক্ষ থেকে চারটিট সুনির্দিষ্ট দাবি তুলে ধরা হয়—
১. নিরপেক্ষ জুডিশিয়াল কমিশন গঠন করে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোর জরুরি ও নিরপেক্ষ তদন্ত করতে হবে।
২. তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে অপরাধ প্রমাণিত হলে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
৩. ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা, পুনর্বাসন এবং আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৪. এছাড়া ট্রনজিশনাল জাস্টিস বাস্তবায়নের জোরালো দাবি জানানো হচ্ছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে HRCBM আরও বলেছে, সমাজে উগ্রবাদ ও মব সহিংসতা রোধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন জরুরি। একই সঙ্গে মানবাধিকার সুরক্ষা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে সরকার, বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমের সমন্বিত ভূমিকা প্রয়োজন।
অ্যাডভোকেট লাকী বাছাড় বলেন, “মানবাধিকার সবার জন্য, ন্যায়বিচার সবার জন্য।”
তবে সাংবাদিক সম্মেলনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বতন্ত্র সত্যতা যাচাই করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো স্বাধীন তদন্তের তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। HRCBM নিজেও জানিয়েছে, অভিযোগগুলোকে তদন্তের আগে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয় এবং প্রকৃত ঘটনা আইনগত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

আরো সংবাদ পড়ুন

পুরাতন সংবাদ পড়ুন

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০  
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত, আমাদের প্রকাশিত সংবাদ, কলাম, তথ্য, ছবি, পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার অপরাধ।
ওয়েবসাইট ডিজাইন: ইয়োলো হোস্ট