বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা ছাত্রনেতাদের মধ্যে সেলিম মাহমুদের নামটি সহযোদ্ধাদের কাছে আলোচিত। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে তাঁর রাজনৈতিক পথচলা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড নিয়ে কর্মীদের মধ্যে নানা প্রত্যাশার কথাও শোনা যাচ্ছে।
দলের দুঃসময়ে কর্মীদের পাশে থাকা, তাঁদের সাহস জোগানো এবং সংগঠনের জন্য সময়, শ্রম ও মেধা ব্যয় করার বিষয়টি তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের আলোচনায় বারবার উঠে আসে।
বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার হাজিরার সময় ভ্যানগার্ডের ভূমিকায় থাকা হতে শুরু করে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভিন্ন আন্দোলন ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচিতে সেলিম মাহমুদ সক্রিয় ছিলেন বলে তাঁর সহযোদ্ধারা জানান। হরতালসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতেও তাঁর অংশগ্রহণের কথা তাঁরা উল্লেখ করেন।
২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক আন্দোলনের এক কঠিন সময়েও তিনি রাজপথের কর্মসূচি থেকে পিছিয়ে যাননি বলে তাঁর সহকর্মীদের দাবি। ওই সময় হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়ে তিন ঘণ্টারও বেশি সময় অচেতন অবস্থায় ছিলেন বলেও তাঁর ঘনিষ্ঠরা জানান।
২০২৩ সালের ২৯ অক্টোবরের হরতাল কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘটিত পল্লবী থানার মামলায় সেলিম মাহমুদকে ১৬ নম্বর আসামি করা হয়েছিল বলে তাঁর সহযোদ্ধারা জানান। মামলা, হামলা ও নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করে গেছেন—এমনটাই তাঁদের বক্তব্য। প্রায় প্রতিদিন হরতাল-অবরোধের কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোদ্ধাদের সঙ্গে নিয়ে তিনি দায়িত্ব পালন করতেন বলেও তাঁরা উল্লেখ করেন।
জুলাইয়ের গণআন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতেও সেলিম মাহমুদের সক্রিয়তার কথা তাঁর সহযোদ্ধারা তুলে ধরেছেন। ১৬ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক পরিস্থিতির পর আন্দোলনের কর্মীদের সঙ্গে তাৎক্ষণিক বৈঠক ও সমন্বয়ের কিছু ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছিল বলে তাঁরা জানান। সেখানে আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সেলিম মাহমুদের উপস্থিতির কথাও উল্লেখ করা হয়।
পরদিন ১৭ জুলাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে রামপুরা এলাকায় অবরোধ কর্মসূচিতে তাঁর ভূমিকার কথাও সহযোদ্ধারা স্মরণ করেন। আশপাশের বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে আন্দোলনকে সংগঠিত করার চেষ্টা করেছিলেন বলেও তাঁদের দাবি।
সেলিম মাহমুদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে তাঁর অনুসারীদের বক্তব্য—এ রাজনীতি ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য নয়; এটি ত্যাগ, আদর্শ ও সংগঠনের প্রতি দায়বদ্ধতার রাজনীতি। দীর্ঘ সময় ধরে মাঠের রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এবং প্রতিকূল পরিস্থিতিতে কর্মীদের পাশে থাকার ঘটনাগুলোই তাঁরা তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়ের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে দেখেন।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। নতুন কমিটি গঠনের আলোচনা সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে কর্মীদের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। সংগঠনের নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করেন, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের ক্ষেত্রে ত্যাগ, সাংগঠনিক দক্ষতা, আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা এবং কর্মীদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়গুলো বিবেচনায় আসা প্রয়োজন।
সেলিম মাহমুদের সমর্থকদের প্রত্যাশা, নতুন কমিটিতে তাঁর দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক ভূমিকার যথাযথ মূল্যায়ন হবে। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিন মাঠে থাকা এবং দুঃসময়ে সংগঠনের পাশে থাকা নেতাদের নেতৃত্বে আসার সুযোগ তৈরি হলে কর্মীদের মধ্যেও নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হতে পারে।
তাঁদের ভাষায়, নেতৃত্বের প্রত্যাশা কেবল একটি পদ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা নয়; বরং ত্যাগের মূল্যায়ন, কর্মীদের প্রত্যাশার প্রতিফলন এবং সংগঠনকে আরও সুসংগঠিত করার আকাঙ্ক্ষা।
সেলিম মাহমুদের রাজনৈতিক পথচলায় ত্যাগ, মামলা-হামলা, আন্দোলন-সংগ্রাম ও সাংগঠনিক দায়িত্ব পালনের যে বর্ণনা তাঁর সহযোদ্ধারা তুলে ধরেন, তা নিঃসন্দেহে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। তবে নতুন কমিটিতে নেতৃত্ব নির্ধারণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট সাংগঠনিক কর্তৃপক্ষের বিষয়।
কর্মীদের প্রত্যাশা ও সংগঠনের সাংগঠনিক প্রয়োজন—এই দুইয়ের সমন্বয়ে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে, এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।
সেলিম মাহমুদের অনুসারীদের প্রত্যাশা স্পষ্ট—দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও সংগ্রামের মূল্যায়ন হোক, যোগ্যতার ভিত্তিতে নেতৃত্ব নির্ধারিত হোক এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের আগামী দিনের সাংগঠনিক পথচলা আরও শক্তিশালী হোক।
ত্যাগী ছাত্রনেতা সেলিম মাহমুদের রাজনৈতিক পথচলার মূল্যায়ন এবং তাঁর ভবিষ্যৎ সাংগঠনিক ভূমিকা নিয়ে এখন নজর থাকবে নতুন কমিটি ঘোষণার দিকে।