ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্ট’-এর শাখা ইউনিটের উদ্যোগে ৪০ জন শিক্ষার্থীকে বৃত্তি প্রদান ও দিনব্যাপী ‘বৃত্তি উৎসব’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ই অক্টোবর) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ২০৫ নম্বর কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের প্রতিনিধি মিশুক শাহরিয়ারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ট্রাস্টের ইবি ইউনিটের ‘ক্যাম্পাস গার্ডিয়ান’ ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর ড. প্রদীপ কুমার অধিকারী, ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রফেসর ড. ধনঞ্জয় কুমার এবং ফোকলোর স্টাডিজ বিভাগের প্রভাষক ফয়সাল হোসেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে নতুন বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন ও তাদের পরিচিতি পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এরপর অতিথিরা নির্বাচিত নতুন শিক্ষার্থীদের হাতে বৃত্তির অর্থ তুলে দেন। এছাড়া একাডেমিক কার্যক্রমে ভালো ফলাফলের স্বীকৃতিস্বরূপ ৬ জন শিক্ষার্থীকে ১ হাজার টাকা করে বিশেষ উপহার প্রদান করা হয়।
বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী অন্তরা খাতুন অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, “সমাজ পরিবর্তনের সূচনা হয় একজন মানুষের পাশে দাঁড়ানো থেকে। আমরা এমন একটি সমাজ চাই যেখানে সবাই সবার বিপদে পাশে দাঁড়াবে এবং বিবেক ও নৈতিক দায়িত্ববোধ থেকে ভালো কাজ করবে।”
সংগঠনটির ইবি প্রতিনিধি মিশুক শাহরিয়ার বলেন, শুধু অর্থ সাহায্য নয়, ভাষা শিক্ষা ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মতো দক্ষতা উন্নয়নমূলক কোর্স এবং ‘স্বাবলম্বী প্রজেক্ট’-এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আত্মনির্ভরশীল হতে এককালীন অনুদানও প্রদান করা হয়ে থাকে।
প্রফেসর ড. প্রদীপ কুমার অধিকারী বলেন, “একজন মানুষকে সাহায্য করলে হয়তো একটি জীবন বদলায়, কিন্তু তাকে নৈতিক ও মানবিক মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে বদলে যেতে পারে পুরো সমাজ। নৈতিকতা কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিষয় নয়, মানুষ হিসেবে আমাদের সবাইকে নৈতিক হতে হবে।”
প্রফেসর ড. ধনঞ্জয় কুমার বলেন, “মোরাল প্যারেন্টিং একটি পরিবার। এই পরিবারের প্রতি তোমাদের সবার দায়বদ্ধতা রয়েছে। মোরাল প্যারেন্টরা আশা করেন তোমরা ভালো কিছু করবে এবং একটি নৈতিক সমাজ গঠনে অবদান রাখবে।”
উল্লেখ্য, ‘মোরাল প্যারেন্টিং ট্রাস্ট’ অরাজনৈতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সামাজিক সংগঠন। দেশের প্রতিটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের প্রতি দুই মাস অন্তর বৃত্তি প্রদান করে আসছে ট্রাস্টটি। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের অধীনে বর্তমানে মোট ৭০ জন শিক্ষার্থী এ বৃত্তি পেয়ে থাকেন। ইউনিটটির সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনায় চারজন শিক্ষক এবং একজন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি নিয়োজিত আছেন।